ইমদাদুল হক মিলন

ইমদাদুল হক মিলন

অণুগল্প লিখে বাংলা সাহিত্যে অমর হয়েছেন বনফুল। বনফুলের প্রকৃত নাম শ্রীবলাইচাঁদ মুখোপাধ্যায়। অণুকাব্য লিখে ইতিমধ্যে আমাদের কাছে বরণীয় হয়েছেন দন্ত্যস রওশন। বনফুলের সঙ্গে আশ্চর্য মিল। দন্ত্যস রওশনের অণুকাব্যের আমি একজন মুগ্ধ পাঠক। বেশ কয়েক বছর ধরে তাঁর অণুকাব্য আমার মতো বহু পাঠককে আকৃষ্ট করে রেখেছে। সঠিক শব্দের ব্যবহার করে দারুণ হাস্য-কৌতুক মিশিয়ে দুই লাইন, চার লাইন কিংবা ছয় লাইনের মধ্যে চমৎকার বক্তব্য তুলে ধরেন রওশন। আমাদের প্রতিদিনের জীবন, মনমানসিকতা এবং চিন্তাভাবনার পরিষ্কার ছাপ ফুটে ওঠে কবিতাগুলোর মধ্যে। একবার পড়তে শুরু করলে পাঠক নিশ্চিত আটকে যাবে রওশনের অণুকাব্যের জালে। যে জাল ছিঁড়ে বেরোনো খুব মুশকিল। ব্যক্তি রওশনের বাচনভঙ্গি, জীবনচারণ ও জীবনদর্শন তাঁর অণুকাব্যে ঝলমল করে ওঠে। ঠাট্টার ছলে দু-চার লাইনের কবিতার মধ্য দিয়ে আমাদের সময়টাকে দেখিয়ে দেন তিনি। সে সময় ও জীবন আমরা যাপন করি, সেই সময় ও জীবনের ছবি তাঁর অণুকাব্যের ফ্রেমে নিয়তই বাঁধা পড়ছে। একজন সৃষ্টিশীল মানুষ হিসেবে সমাজের সূক্ষ্মাতিসূক্ষ্ম ত্রুটিগুলো হাস্যরস ও কৌতুকের মধ্য দিয়ে তুলে ধরার বিরল ক্ষমতা রাখেন দন্ত্যস রওশন। যত দিন যাবে এই ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পাবে তাঁর। অণুকাব্যের জগতে তিনি একক কৃতিত্বের অধিকারী হবেন, এতে আমার কোনো সন্দেহ নেই। প্রিয় রওশন, ‘তোমার অণুকাব্য লেখার কলমটির কালি যেন কখনো ফুরিয়ে না যায়। তোমার দেখার চোখ এবং লেখার ক্ষমতা প্রতিদিন যেন অতিক্রম করে আগের দন্ত্যস রওশনকে। তোমার জন্য এই আমার কামনা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


one + 9 =